
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সাভার উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে সরকারি কোনো পদ বা নিয়োগ না থাকলেও নিজেকে প্রভাবশালী কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে একচেটিয়া রাজত্ব কায়েম করেছেন ‘কবির’ নামের এক বহিরাগত ব্যক্তি। আভিজাত্যপূর্ণ চলনবলনের আড়ালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অফিসটিতে আদালতের পেশকারের দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার ইশারায় ফাইল আটকানো থেকে শুরু করে জাজমেন্টের গতিপথ বদলে দেওয়ার মতো গুরুতর অনিয়ম ঘটছে নিয়মিত।
স্থানীয় ভুক্তভোগী ও জমির মালিকদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাভার উপজেলা সেটেলমেন্টের বড় বরদেশী আদালতের সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা সেলিনা পারভীনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেন এই কবির। সরকারি কর্মকর্তার ছায়াতলে থেকে তিনি আদালতের নথি পরিচালনা ও সরাসরি শুনানিতে অংশ নেন। বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষকে নানা আইনি মারপ্যাঁচে ফেলে প্রথমে কোণঠাসা করা হয়, এরপর শুনানির নামে চলে রমরমা নাটক। আর পর্দার আড়ালে আসল খেল দেখান এই ছদ্মবেশী ব্যক্তি।
তবে এ বিষয়ে সাভার উপজেলা সেটেলমেন্টের বড় বরদেশী আদালতের সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা সেলিনা পারভীনকে মুঠোফোনে একাধিক বার কল করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে আমিনবাজারের স্থায়ী বাসিন্দা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, সে সরকারী কোন গেজেট ভুক্ত কর্মকর্তা না হয়েও জমি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আদালতে কিভাবে কাজ করে আমার জানা নেই। কর্তৃপক্ষের তার উপর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।
ব্যক্তিগত চেম্বারে ঘুষের লেনদেন ও সিন্ডিকেট
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই অবৈধ কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়ার জন্য আলমনগর হাউজিং এলাকায় কবিরের একটি ব্যক্তিগত কার্যালয় বা ‘প্রাইভেট চেম্বার’ রয়েছে। সেটেলমেন্ট অফিসে আসা জমি মালিকদের বিভিন্ন উপায়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিংবা কৌশলে ফাঁদে ফেলে ওই কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে বসেই চলে দরকষাকষি এবং জমির নথি সংশোধনের নামে লাখ লাখ টাকার ঘুষ লেনদেন।
সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের প্রশাসনিক নজরদারির তোয়াক্কা না করে কীভাবে একজন বহিরাগত ব্যক্তি দিনের পর দিন এমন জালিয়াতি ও চাঁদাবাজির সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন, তা নিয়ে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
উদ্বেগ ও দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি
সেটেলমেন্ট অফিসের মতো একটি সংবেদনশীল সরকারি কার্যালয়ে বহিরাগত ব্যক্তির এমন দৌরাত্ম্য এবং প্রশাসনিক পদে অনধিকার প্রবেশের ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ঘুষ বাণিজ্য, নথি জালিয়াতি ও সিন্ডিকেটের এই অবৈধ রাজত্ব থেকে সাধারণ ভূমি মালিকদের সুরক্ষা দিতে দ্রুত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)সহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।