
মুবিনুর রহমান রবিন :
সাভার উপজেলার স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, অনিয়ম প্রতিরোধ ও সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুনানি থেকে সেবাগ্রহীতাদের উত্থাপিত ১৬টি সমস্যার মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে ১৪টি নিরসন করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে আগামী ছয় মাসের মধ্যে অবশিষ্ট সমস্যাগুলো সমাধান ও সেবার মান পুরোপুরি উন্নত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা।
আজ রবিবার (৪ অক্টোবর) সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ‘দুর্বার ৭১’ মিলনায়তনে এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-র অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), সাভার এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
সনাক সাভারের সভাপতি অধ্যাপক দীপক কুমার রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন এলাকার সেবাপ্রার্থী, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, সনাক, এক্টিভ সিটিজেন্স গ্রুপ (এসিজি) ও ইয়েস সদস্যসহ নানা শ্রেণি-পেশার প্রায় ৭০ জন নাগরিক অংশ নেন।
গণশুনানিতে সেবাগ্রহীতারা হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ওষুধের স্বল্পতা, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ, নারী-পুরুষের পৃথক শৌচাগার না থাকা, বয়স্ক রোগীদের অগ্রাধিকার, রক্ত পরীক্ষার কিটের স্বল্পতা, সুপেয় পানির সংকট, সিটিজেন চার্টার ও অভিযোগ বাক্সের অভাব এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধমূলক উদ্যোগের মতো ১৬টি সুনির্দিষ্ট সমস্যা ও ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে ১৪টি বিষয়ে তাৎক্ষণিক ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয় কর্তৃপক্ষ।
সেবাগ্রহীতাদের বিভিন্ন অভিযোগ ও প্রশ্নের জবাবে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ ফজলে বারী বলেন, “গত পাঁচ মাসে স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও জনবল ও ওষুধ স্বল্পতার কারণে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। তবে কোনো কর্মচারীর অবহেলা বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি কর্মীদের তথ্য প্রদর্শন, শৌচাগার পরিচ্ছন্নতার জন্য কর্মচারী নিয়োগ, রোগীদের বসার পৃথক ব্যবস্থা এবং বিরুলিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী তিন মাস পর কাজের অগ্রগতি তুলে ধরতে এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পুনরায় গণশুনানির আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সনাকের স্বাস্থ্য বিষয়ক উপকমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী মো: আব্দুল খালেক। স্বাগত বক্তব্য ও গণশুনানির লক্ষ্য-উদ্দেশ্য তুলে ধরেন টিআইবির ঢাকা ক্লাস্টার কো-অর্ডিনেটর-সিই মোঃ মাহান উল হক। সনাক সদস্য মোঃ সিরাজুল হক সীমান্ত সিরাজের সঞ্চালনায় মুক্ত আলোচনায় স্থানীয় নাগরিকরা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে বিভিন্ন পরামর্শ দেন। সবশেষে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন সনাক সদস্য সুফিয়া বেগম ও এডভোকেট আব্দুল কাদের শাহীন।
আলোচকরা নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবার মান পর্যবেক্ষণ, সেবার তথ্য সবার জন্য সহজলভ্য করা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দাবি জানান।