
সিজে নিউজ ডেস্ক :
রাজধানীর সাভারে স্বনামধন্য পাদুকা ব্র্যান্ড ‘বে’ (Bay)-এর লোগো ব্যবহার করে অবৈধভাবে নকল জুতা উৎপাদনের একটি কারখানার সন্ধান পাওয়ার পর পুলিশি অভিযানে তিনজনকে আটক করা হলেও, কোর্টে পাঠাতেই জামিনে মুক্ত হয়ে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ আসামিদের রিমান্ড চেয়েও তা না পাওয়ায় এবং নামসর্বস্ব সমঝোতার গুঞ্জনে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন দানা বেঁধেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও পুলিশি অভিযান
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভারের আমিনবাজার এলাকায় পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানে ‘বে’ (Bay) ব্র্যান্ডের লোগো জালিয়াতি করে নকল জুতা তৈরির অভিযোগে একটি কারখানার সন্ধান মেলে। সেখানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল জুতা ও উৎপাদন সামগ্রী জব্দ করা হয়।
এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ফুজি ফুটওয়ার ফ্যাক্টরিতে কর্মরত তিনজনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন: খালেক ফেরদাউস, তাজুল ইসলাম, তন্ময় হাসান
এ ঘটনায় ‘বে’ কোম্পানির পক্ষ থেকে সাভার মডেল থানায় একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নম্বর: ৬৭)।
পুলিশ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আটককৃত আসামিদের তিন দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে সোপর্দ করে। তবে আদালত উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তি-তর্ক শুনে আসামিদের জামিন মঞ্জুর করেন।
এত দ্রুত আলোচিত একটি জালিয়াতি মামলার আসামিরা জামিনে মুক্তি পাওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, একটি স্বনামধন্য ব্র্যান্ডের নাম ভাঙিয়ে নকল ব্যবসা করার পরও কীভাবে এত সহজে তারা ছাড়া পেয়ে গেল। এর পেছনে কোম্পানির অভ্যন্তরে কোনো প্রভাবশালী মহলের মৌন সম্মতি বা আর্থিক লেনদেন ও আসামি পক্ষের নীরব ভূমিকা থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকে।
মামলার বিষয়ে বাদী আতিকুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কোম্পানির অবস্থান: ‘বে’ কোম্পানির লিগেল অ্যাডভাইজার জাকির হাসান জানান, “আসামিপক্ষ কোম্পানির সাথে সমঝোতা (কম্প্রোমাইজ) করার চেষ্টা করছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করবে না বলে অঙ্গীকার করেছে। আমরা ক্লায়েন্টের হয়ে কাজ করি, তারা যেভাবে চায় সেভাবেই মামলা নিষ্পত্তি হয় ”
রাষ্ট্রপক্ষ ও আদালত: সাভার থানার কোর্ট জিআরও সিদ্দিকের কাছে আসামিদের জামিনে কোম্পানির মৌন সমর্থন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামিদের রিমান্ড মঞ্জুর এবং জামিন না দেওয়ার জোরালো আবেদন করা হয়েছিল। তবে মামলার বাদীপক্ষের সুনির্দিষ্ট জোরালো আপত্তি বা বক্তব্য না থাকলে বিচারক উভয় পক্ষের যুক্তি শুনে জামিন দিতে পারেন, যা আদালতের এখতিয়ার।”
এবিষয়ে আমিনবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাকির আল আহসান বলেন, “কোম্পানির কর্তৃপক্ষের অভিযোগে আমরা নকল প্রোডাক্ট তৈরির দায়ে প্রতারণা মামলায় আসামিদের গ্রেফতার করে চালান দিয়েছিলাম। তবে এই মামলায় জামিন কীভাবে হলো তা আমাদের জানা নেই। আমরা আসামিদের রিমান্ড চেয়েছিলাম, রিমান্ড মঞ্জুর হলে মূল রহস্য উদঘাটন এবং এই চক্রের সাথে কারা কারা জড়িত তাদের সনাক্ত পূর্বক আইনের আওতায় আনা সম্ভব হত।
ব্র্যান্ডের কপিরাইট আইন লঙ্ঘন এবং সাধারণ ক্রেতাদের সাথে প্রতারণার এমন গুরুতর অপরাধে জড়িতরা দ্রুত জামিন পেয়ে যাওয়ায় নকল পণ্যের দৌরাত্ম্য থামবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। এই সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের মুখোশ উন্মোচন করতে কোম্পানির উচ্চপর্যায়ের স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।